নিজস্ব প্রতিবেদক:
আজ ৭ জানুয়ারি—বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কিত দিন। ২০১১ সালের এই দিনে কুড়িগ্রাম জেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারায় কিশোরী ফেলানী খাতুন। হত্যার পর তার মরদেহ দীর্ঘ সময় সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা বিশ্বজুড়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে।
ফেলানী হত্যার দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও আজও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। বরং বারবার বিচার প্রক্রিয়ার নাটকীয়তা ও দায়ীদের দায়মুক্তি দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি মানবাধিকারের প্রশ্নকে আরও গভীর সংকটে ফেলেছে।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ মুসলিম ছাত্র ফেডারেশন এক বিবৃতিতে ফেলানী হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পুনঃতদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর বিএসএফের গুলিবর্ষণ, নির্যাতন ও আগ্রাসী আচরণ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ফেলানী কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত এক যুগের বেশি সময়ে সীমান্তে অসংখ্য নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিক বিএসএফের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। অথচ এসব হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হয়নি। বিচারহীনতাই এই অপরাধকে উৎসাহিত করছে।”
তারা আরও বলেন, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলা হলেও বাস্তবে সীমান্তে বাংলাদেশিদের রক্ত ঝরছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপ জরুরি।
ছাত্র ফেডারেশন দাবি জানায়—
ফেলানী হত্যার আন্তর্জাতিক মানের বিচার নিশ্চিত করতে হবে
সীমান্তে ‘গুলির নীতি’ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে
বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে
ফেলানী হত্যার স্মৃতি আজও জাতিকে নাড়া দেয়। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি কিশোরীর জীবন কেড়ে নেয়নি, বরং মানবতা ও ন্যায়ের ওপর গভীর আঘাত হেনেছে—যার বিচার আজও অধরা।

