গাজীপুর (কালিয়াকৈর), ১ জানুয়ারি ২০২৬:
গত ১৮ ডিসেম্বর গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় রেদুয়ান রহমান আদনানের বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন ও একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সময় তিনি বাসায় উপস্থিত ছিলেন না। জানা যায়, তিনি ওইদিন রাতে গাজীপুর চৌরাস্তায় হাদি ভাইয়ের হত্যার প্রতিবাদে চলমান ব্লকেড কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছিলেন।
চুরির ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে রেদুয়ান রহমান আদনান জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চান। পরে ৯৯৯-এর মাধ্যমে এসআই আলমগীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
আশ্চর্যজনকভাবে, পুলিশ পরবর্তীতে চুরি হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও ল্যাপটপটি উদ্ধারের পর সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উধাও থাকার অভিযোগ উঠেছে।
চুরির ঘটনার পরদিন রেদুয়ান রহমান আদনান থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার সুযোগ পাননি বলে জানান। তিনি বলেন, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনে ব্যস্ত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে থানায় যেতে পারেননি। পরবর্তীতে তার মা ও মামা থানায় গিয়ে জিডি করতে চাইলে পুলিশ তাদের জানায়, “৭ দিনের মধ্যে কাজ হবে।”
তবে আজ ১ জানুয়ারি এ বিষয়ে থানায় যোগাযোগ করা হলে এএসআই মনিরুজ্জামান জানান, তিনি ১৫ দিনের আগে তদন্তের কাজ শুরু করেন না। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মুখসারির কর্মী হিসেবে পরিচিত রেদুয়ান রহমান আদনানকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় কালিয়াকৈর এলাকাবাসী ও ছাত্রসমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ছাত্রজনতার দাবি, জুলাইয়ের আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা এবং বর্তমানে গাজীপুরে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে সবচেয়ে সক্রিয় একজন কর্মীকে এভাবে অপমান করা নিন্দনীয়।
তারা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, এ ধরনের ঘটনায় যদি ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার না পান, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও কমে যাবে।

